নিজের জ্ঞান সবার মাঝে ছড়িয়ে দেওয়ার পাশাপাশি প্রতি মুহূর্ত আপনার চারপাশে ঘটে যাওয়া ঘটনা নিয়ে আপনি ও লিখুন। বিডি বন্ধন ব্লগে রেজিস্ট্রেশন সবার জন্য উন্মুক্ত।

ভোটের আর বাকি

13দিন 19ঘন্টা 19মিনিট 20সেকেন্ড

বীর প্রতীক তারামন বিবি আর নেই

বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধের একজন অন্যতম নারী মুক্তিযোদ্ধা বীর প্রতীক তারামন বিবি স্বাধীনতার মাসে শনিবার রাত দেড় টার দিকে তার গ্রামের বাড়ি কুড়িগ্রামের রাজিবপুর উপজেলার শংকর মাধবপুর গ্রামে ইন্তেকাল করেন (ইন্না লিল্লাহি-রাজেউন)। মৃত্যুকালে তার বয়স হয়েছিল ৬২ বছর। শনিবার দুপুর ২টায় তাকে রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় রাজিবপুর উপজেলার কাচারীপাড়া তালতলা কবরস্থানে তাকে দাফন করা হবে। গার্ড অফ অর্ণারে অংশ নিবেন কুড়িগ্রামের জেলা ম্যাজিস্ট্রেট ও জেলা প্রশাসক সুলতানা পারভীন, পুলিশ সুপার মেহেদুল করিমসহ বিভিন্ন সামাজিক-সাংস্কৃতিক-পেশাজীবী ও রাজনৈতিক সংগঠনের নেতৃবৃন্দ। মৃত্যুকালে তিনি স্বামী ও এক ছেলে ও এক মেয়ে রেখে যান।
বীর প্রতীক তারামন বিবি দীর্ঘদিন ধরে ফুসফুস, ডায়েবেটিস আর শ্বাসকষ্ট রোগে ভুগছিলেন। গত মাসেও শ্বাসকষ্ট বেড়ে যাওয়ায় তাকে ঢাকা সিএইচএম হসপিটালে চিকিৎসা দেয়া হয়েছিল। আজ রাত রাত ১টা ২৭মিনিটে তিনি শেষ নিশ^াস ত্যাগ করেন।
বীর প্রতীক তারামন বিবি কুড়িগ্রাম জেলার চর রাজিবপুর উপজেলার শংকর মাধবপুর গ্রামে জন্মগ্রহন করেন। বাবার নাম আবদুস সোহবান এবং মায়ের নাম কুলসুম বিবি। তাঁর স্বামীর নাম আবদুল মজিদ। তাঁদের এক ছেলে এক মেয়ে। ১৯৭১ সালে তারামন বিবি ১১ নং সেক্টরে যুদ্ধে মুক্তিযোদ্ধাদের সহায়তা করেন। তখন ১১ নং সেক্টরের নেতৃত্বে ছিলেন সেক্টর কমান্ডার আবু তাহের। মুহিব হাবিলদার নামে এক মুক্তিযোদ্ধা তারামন বিবিকে মুক্তিযুদ্ধে অংশ নেওয়ার জন্য উৎসাহিত করেন। তিনি তারামনকে ক্যাম্পে রান্নাবান্নার জন্য নিয়ে আসেন। তখন তারামনের বয়স ছিলো মাত্র ১৩ কিংবা ১৪ বছর। কিন্তু পরবর্তিতে তারামনের সাহস ও শক্তির পরিচয় পেয়ে মুহিব হাবিলদার তাঁকে অস্ত্র চালনা শেখান। একদিন দুপুরে খাবারের সময় তারামন ও তার সহযোদ্ধারা জানতে পারেন পাকবাহিনীর একটি গানবোট নিয়ে তাদের দিকে আসছে। তারামন তার সহযোদ্ধাদের সাথে যুদ্ধে অংশ নেন এবং তারা শত্রুদের পরাস্ত করতে সক্ষম হন। এরপর তারামন অনেক সম্মুখ যুদ্ধে পুরুষ মুক্তিযোদ্ধাদের সাথে অংশ নেন। অনেকবার তাদের ক্যাম্প পাকবাহিনী আক্রমণ করেছে, তবে ভাগ্যের জোরে তিনি প্রতিবার বেঁচে যান। যুদ্ধ শেষে ১৯৭৩ সালে তৎকালিন সরকার মুক্তিযুদ্ধে তারামন বিবিকে তার সাহসিকতা ও বীরত্বপূর্ণ অবদানের জন্য “বীর প্রতীক” উপাধিতে ভূষিত করেন। কিন্তু ১৯৯৫ সাল পর্যন্ত তাঁকে খুঁজে বের করা সম্ভব হয়নি। ১৯৯৫ সালে ময়মনসিংহের একজন গবেষক প্রথম তাঁকে খুঁজে বের করেন। নারী সংগঠনগুলো তাঁকে ঢাকায় নিয়ে আসেন। সেই সময় তাকে নিয়ে পত্রিকায় প্রচুর লেখালেখি হয়। অবশেষে ১৯৯৫ সালের ১৯শে ডিসেম্বর তৎকালিন সরকার এক অনাড়ম্বর পরিবেশে আনুষ্ঠানিকভাবে তারামন বিবিকে বীরত্বের পুরস্কার তাঁর হাতে তুলে দেন।

Share Button
The following two tabs change content below.

bdbondhonit

মো: নুরবক্ত আলী (এডমিন) নিজের সম্পর্কে বলার তেমন কিছুই নেই, আমি খুব সাধারন একজন মানুষ। পড়াশুনা করেছি উলিপুর এমএস হাই স্কুল থেকে এসএসসি, চিলমারী ডিগ্রী কলেজ থেকে এইচএসসি ও স্নাতক, কুড়িগ্রাম ভোকেশনাল ইন্সটিটিউট থেকে জাতীয় দক্ষতা ২য় এবং ৩য় মান। আইটি বিষয়ে আরডিআরএস বাংলাদেশ, আনছারী আইটি উলিপুর এবং গুগল।  ছোটবেলা থেকেই টেকনোলোজির প্রতি ভীষণ আগ্রহ ছিল আমার। তাই সারাক্ষন গুগুলে পড়েছিলাম। আমি যা কিছু শিখেছি তা গুগলের জন্য। আইটি বিষয়ে কাজ করি। ভালবাসি আইটি সংক্রান্ত নতুন কিছু শিখতে। আমার শেখা তখনই স্বার্থক হবে, যখন সেটা আমি আরেকজনের মাঝে ছড়িয়ে দিতে পারব।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

BD BONDHON © 2015-2017 DMCA.com Protection Status Site Developed by- Nurbakta Ali. Ansari IT, Ulipur, Kurigram
error: থামুন, অনুমতি ছাড়া কপি করা যাবে না।।