নিজের জ্ঞান সবার মাঝে ছড়িয়ে দেওয়ার পাশাপাশি প্রতি মুহূর্ত আপনার চারপাশে ঘটে যাওয়া ঘটনা নিয়ে আপনি ও লিখুন। বিডি বন্ধন ব্লগে রেজিস্ট্রেশন সবার জন্য উন্মুক্ত।

বিশ্বের কয়েকটি সেরা ভাইরাস ।

ভাইরাস হলো কম্পিউটার -এর একধরনের প্রোগ্রাম । কিন্তু এই প্রোগ্রামগুলো  তৈরি করা হয় কম্পিউটার সিস্টেমকে ক্ষতিগ্রস্থ করার জন্য। আসুন দেখে নেই  কয়েকটি সেরা ভাইরাস নিয়ে |

Nimda :

Nimda শব্দটি এসেছে Admin শব্দকে উল্টো করে। এটি আঘাত হানে ৯/১১ টুইন টাওয়ার হামলার ১ সপ্তাহ পর । ১৮ ই সেপ্টেম্বর ।  এই ভাইরাসের মুল কাজ ছিলো ডিনায়াল ইন সার্ভিস এটাকের মাধ্যমে ইন্টারনেট কানেকশন স্লো করে দেয়া। ৪ টি মাধ্যমে এই ভাইরাস-এর বিস্তৃতি লাভ করতো । ইমেইল , হোস্টিং সারভার , ফাইল  ট্রান্সফার এবং ফোল্ডার শেয়ারিং দ্বারা।

সাধারন দৃষ্টিতে এই ভাইরাসের তেমন ক্ষতিকর দিক নেই বলে মনে হয়। কিন্তু যেসব প্রতিষ্ঠানের একটানা ইন্টারনেটের মাধ্যমে কাজ করতে হয় ( যেমন ব্যাংকিং সিস্টেম ) ঐসব  প্রতিষ্ঠানের এই এটাকেই অনেক টাকার ক্ষয়ক্ষতি হয়ে যায়।

My Doom:

২০০৪ সালের ২৬-শে জানুয়ারি এই ভাইরাসটি সারা বিশ্বে একটি শকওয়েভ সৃষ্টি করেছিলো।  অল্পসময়ের মধ্যে ২০ লাখ কম্পিউটারে এটি ছড়িয়ে পড়ে মারাত্নক আকারে ডিনায়াল অফ সারভিসেস এটাক করে কিছু সময়ের জন্য পুরো বিশ্বের ইন্টারনেট স্তব্ধ করে দিয়েছিলো। এইভাইরাসের সিস্টেমছিলো এটি ইউজারের মেইলে একটি ইনফেক্টেড মেইল পাঠাতো যা খোলার  সাথে সাথেই ঐ ইমেইল একাউন্টের সব মেইল এড্রেসে একই মেইল চলে যেত । অবশ্বাস্যভাবে দ্রুত গতিতে এটি ছড়িয়ে পড়েছিলো সারা বিশ্বে। প্রায় ৩৮ বিলিয়ন ডলারের ক্ষয়ক্ষতি সাধিত হয় এই ভাইরাসের মাধ্যমে।

Melissa:

১৯৯৯ সালের ২৬-শে মার্চ এই ভাইরাসটি সারা বিশ্বে হেডলাইন হয়। স্বল্প সময়ের মধ্যেই এটি কয়েক হাজার কম্পিউটার-কে আক্রমন করে বসে। এটি কাজ করতো মাইক্রোসফট আউটলুককে ব্যাবহার করে ইমেইল-এর মাধ্যমে সিস্টেমের ক্ষতি করতো। এর এন্টি ভাইরাস বের হয়েছে , তবে মজার ব্যাপার হলো এই ভাইরাসকে ইন একটিভ রাখা যায় তবে পুরোটাকে ধ্বংস করা যায় না।  সে সময়ে এফবিআই  অনেক বড় করে এই ভাইরাস -এর জন্মদাতার খোজে বের হয়।  প্রায় ৩০-৬০ কোটি ডলারের ক্ষয়ক্ষতি হওয়ার পরও আমেরিকার আদালত তাকে মাত্র ২০ মাসের জেল এবং ৫০০০ ডলার জরিমানা করে।

SQL Slammer:

এই বস ভাইরাসটি মাত্র ১২ ঘন্টার মধ্যমে বিশ্বের ৬ লাখ কম্পিউটার এবং সারভার-কে আক্রমন করে বসে।  তবে আমেরিকা আর দক্ষিন কোরিয়াতে বেশি আক্রমন করে এটি ।  ২০০৩ সালের ২৫ শে জানুয়ারি এটি আক্রমন  করে । এর প্রতিটি প্যাকেট ৩৭৬ বাইট ওয়র্ম থাকতো আইপি এড্রেসগুলোকে আক্রমন করার জন্য।

CIH:

প্রায় ৮০০ কোটি টাকার ক্ষয়ক্ষতি সাধন করেছিলো এই ভাইরাসটি ।এটি সর্বপ্রথম তাইওয়ানে ১৯৯৮ সালের জুন মাসে আবিষ্কৃত হয় । এই ভাইরাসটি উইন্ডোজ অপারেটিং সিস্টেমে এটাক করে কম্পিউটারের ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি করে ।

ILOVEYOU:

ভালোবাসার বানী ছড়িয়ে এমনই ভালোবেসেছে যে পুরো বিশ্বে প্রায় ৫০০ বিলিয়ন টাকার ক্ষয়ক্ষতি সাধন করেছে।  এটি সর্বপ্রথম ফিলিপাইনে ২০০০ সালের ৪-ই মে  আবিষ্কৃত হয় । কোনো সন্দেহ নেই এই ভাইরাসটি শীর্ষ ডেঞ্জারাস এবং ট্রিকি ভাইরাসের  মধ্যে পড়ে।

Storm Worm :

এই ভাইরাসটি ব্যাপাকহারে আক্রমন করে ২০০৬ সালে। মেইলে  “230 dead as storm batters Europe” এই সাব্জেক্টের একটি মেইল আসতো যেখানে একটি ভাইরাস আক্রান্ত লিঙ্ক থাকতো। কেউ যদি সেখানে ক্লিক করতো তাহলে তার কম্পিউটারের রিমোটলি কন্ট্রোল চলে যেত হ্যাকারের কাছে । প্রায় ১ কোটি কম্পিউটার আক্রান্ত হয় এই ভাইরাসের মাধ্যমে।

Share Button

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

BD BONDHON © 2015-2017 DMCA.com Protection Status Site Developed by- Nurbakta Ali. Ansari IT, Ulipur, Kurigram
error: থামুন, অনুমতি ছাড়া কপি করা যাবে না।।